জন্মতিথি

এইতো মনে হয় সেদিনের কথা -
বয়স তখন কতই বা – পাঁচ কিংবা ছয়।
বাবা-মা বলতো আজ জন্মদিন -আর আমি
আমি ভাবতাম রঙ্গীন বেলুন,রাঙতায় মোড়ানো হাতি ঘোড়ার কথা
আয়োজন হয়তো পায়েস কিংবা সাথে অন্য কিছু
কিন্তু আজ জানি – বুঝতাম না তখন জন্মদিনের ব্যাপার

এইতো মনে হয় সেদিনের কথা -
ঠিক ই মনে থাকতো নিজের জন্মদিনের কথা
আর এটাও নিশ্চিত ছিল বন্ধুরা ঠিক ই রাতে -
মোমবাতি জ্বালিয়ে ডাকবে কেকব্যাবচ্ছেদ এ ।
তারপর হুটোপুটি খাওয়া বড় পিস টি কে খাবে তা নিয়ে।
সাথে কারো চিঠির অপেক্ষায় থাকা -অবধারিত ভাবে- আর শুধু স্বপ্ন দেখা
স্বপ্ন দেখা চারপাশ নিয়ে – ভালবাসা দিয়ে

এইতো মনে হয় সেদিনের কথা -
আমাদের দুজনার তখন ছোট্ট সংসার – বিয়ে হয়েছে মাস পাঁচেক ,
আমার প্রথম জন্মতিথি উদযাপন – দুজনার এক সাথে -
এক ছাদের নিচে ।
আয়োজনের তেমন কিছু নেই – দরকার ও নেই ।
দু’জোড়া চোখে রঙ্গীন চশমা ।
সেই চশমা আবার দূরবীনের মত কাজ করে -
অনেক দূরের কিছু ও দেখতে পাই- আবছা আবছা – কিন্তু রঙ্গীন ।

আর আজ আমার নিজেকে মনে হয় অনিমেষ।
যার দু হাতে এক তাল কাঁদা -
যা দিয়ে ইচ্ছেমত মূর্তি গড়া যায়।

আযোগ্য আমি

যখন আমার খুব মন খারাপ থাকে
তখন খুব ইচ্ছা করে যেন মরে যাই।
না ,এটা আত্মহত্যার মতো নয়-আবার
কেমন যেন স্বেচ্ছামৃত্যু ও নয়।এ যেন সমস্ত পৃথিবীর তৈরী
অদ্ভুত নিয়ম গুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদি মৃত্যু।
জানি সে মৃত্যু পৃথিবীর কোন নিয়ম ই পাল্টাতে পারবেনা।
বরঞ্চ আরো প্রতিষ্ঠিত করবে এই প্রচলিত মিথ্যা -যে
অযোগ্য লোকেরা ই মরে যায় কিংবা
মরে যাওয়াটা ই অযোগ্যতা।
ঐ দিন এই কথাগুলাই যখন তাকে বলছিলাম-
সে সবেগে মাথা নেড়ে বলে-”কেনো?আমাকে
যখন গভীরভাবে আদর কর তখন ও তো আমার কানে
ফিসফিসিয়ে বল-সোনা ,আমার একদম মরে যেতে ইচ্ছা করে”
তারপর ভ্রু-যুগল কাঁপিয়ে বলে-”তোমার মরে যাবার ইচ্ছাটা ই যদি এত্ত
তবে জন্মালে কেন ?”
আমি হাসতে থাকি
আমার সকল শক্তি তখন নিবুনিবু প্রদীপ হয়ে
ছাদে ঝুলতে থাকে-আমার অস্তিত্ব হয়ে।
সেই সাথে ভাবনাগুলো ও স্হির হয় এই ভেবে যে-
আমরা প্রতিনিয়ত আসলে মরতে ই চাই,
জন্ম থেকে আমরা এই একটা মুহুর্তের প্রতিক্ষাতেই আছি।