হাসিমুখ

তরুণ টি বসে আছে খুব সুন্দর একটা জায়গায় – অপেক্ষা করছে বুঝা যাচ্ছে – কার জন্য সেই অপেক্ষা ঠিক বুঝা যাচ্ছেনা ।
এর মাঝে ই কয়েকবার ফোন বের করে কল ও দিল – ” এই মুহূর্তে সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা … ” …” এই মুহূর্তে সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা … ” ঠিক কি করবে বুঝছেনা । তখন একটা ছোট্ট পথশিশু এল এক গুচ্ছ ফুল নিয়ে । বার বার ছেলেটিকে অনুরোধ করছে ফুলগুলো কিনে নেবার জন্য । ছেলেটি আড় চোখে দেখছে শুধু বিরক্তভরে । কিছু রাস্তার ছবি – কিছু গাড়ি আসা যাওয়া করছে – ফোন বের করে কল দিচ্ছে শুধু – ” এই মুহূর্তে সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা … ”
- ” স্যার ফুলগুলা কিনেন – আফা দেখলে খুশী হইব ”
- তরুণ টির বিরক্ত আরও বেড়ে যায় – ভাবে কোন সমস্যা হলনাতো ? ব্যাকগ্রাউন্ডে টেনশন এর মিউজিক
- ” নেন না ভাইজান … ফুলগুলো কিনলেই দেখবেন আফা চইলা আইছে ”
- এবার তরুণটি একটু অন্যরকম কওরে তাকায় – ” হ , তোরে কইছে ? ”
- ” আপনি কিন্যাই দেখেন ভাইজান … আর না আসলে আমার ফুল আমারে দিয়ে দিয়েন … টাকা লাগবো না ” বলে ছোট মেয়েটি মাথা নেড়ে একটু হাসবে।
এর পর তরুণটি মানিব্যাগ বের করবে – ফুলগুলো এখন তরুণটির হাতে … একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ফুলগুলোর দিকে – ছোট মেয়েটি হেটে হেটে দুরে গিয়ে তাকিয়ে আছে –
কিছু রাস্তার ছবি – কিছু গাড়ি আসা যাওয়া করছে – হঠাত ছেলেটি রাস্তার দিকে তাকাল – আর একটা স্বস্তির হাসি দিল

৩৬ বছর

নতুন করে প্রেমে পড়ার জন্য ৩৬ বছর বড় বাজে সময়
এ সময় প্রেম আসে একেবারে নতুন্রুপে – ঘণ্টা বাজিয়ে নয় ;
আসে এক লহমায় টালমাটাল করে হারিয়ে দিতে ।
দূর হতে সব কিছু বোঝার মত দৃষ্টি বিনিময়ের বিরতিতে ;
একটুখানি আবার ঘরের কথাও ভেবে নিতে ;অথবা
পাশাপাশি না থেকেও বর্তমান অন্তর্জালে – কিংবা
কোথাও কোন সেমিনার এর তাড়াহুড়ায় , পরিপাটি শাড়ির পাটে
আর এক কাপ কফির বিনিময় , আমেরিকানো নয় – দুধে ভরা লাটে ।

নতুন করে প্রেম বোঝার জন্যও ৩৬ বছর বড় কঠিন সময়
এ সময় প্রেম আসে ভিন্ন রুপে – যেন সান্তুরে ঝংকার তোলা সন্ধ্যায়
তোমার আগমন ম্লান করে তোলে সব আয়োজন – বৃথা করে
তোলে চারপাশের মৃদুমন্দ পরিবেশ । আর মন মর্মরে
বাজে শুধু শরীরের ডামাডোল। যখন সত্য সত্য শুধু সত্য
মনে হয় তোমাকে আর সব কিছুই ঘোর লাগা পরাবাস্তব অস্তিত্ব ।
সুরলহমা বেজে যায় শুধু স্তব্ধময়তায় : সন্ধ্যা সকাল দিনে রাতে –
জেগে ওঠে সুর সব বাদ্যযন্ত্রে – প্রাণহীন নয় – রক্ত মাংসের তানপুরাতে ।