কবেকার কলকাতা শহরের পথে

আমার চোখে কলকাতা শহরের রুপ অনেক পূর্ব থেকেই গাঁথা অপরুপা হিসেবে । কেউ আবার ভুল বুঝবেন না – আমি না দেখেই এই শহরের প্রেমে পড়েছিলাম । সুমন এর গানে “কবেকার কলকাতা শহরের পথে”  হাঁটতে হাঁটতে , অনিমেষ যখন মাধবীলতা কে পৌছে দিত বাড়ি অব্দি , অতীন যখন পরীক্ষা হল থেকে বের হয়ে দল বেঁধে সিনেমা হলে যেত – আমি তো তাদের সাথে ই হেঁটেছি – আমি হেঁটেছি জয়িতা এর সাথে, সুনীল এর সাথে কফি হাউসে বসে আড্ডা দিয়েছি – অপু যখন নতুন বউকে নিয়ে সংসার বাঁধা শুরু করল – আমি ও ছিলাম তাদের কাছাকাছি ই – এমনকি পিতা ঠাকুরদাস এর সাথে যখন বালক ঈশ্বর মাইলফলক গুনতে গুনতে রাঙা শহরের দিকে হাঁটছিল – আমি ও যেন যাচ্ছিলাম সে শহরের পানে।

হিসেবে বাড়ির কাছের শহর – কিন্তু ভিসা , পাসপোর্ট এর কল্যাণে আজ তা ভিন দেশ – তাই কখনো যাওয়া হয়নি – অবশেষে অফিসের একটা কাজে যাওয়া কলকাতা শহরে -

গিয়ে কেমন লেগেছে তা তেমন প্রকাশ করতে পারবনা – পারিও না । কম কথার মানুষ – মনের ভাল লাগা মন্দ লাগা প্রকাশের ক্ষমতার একটা স্বল্পতা আছে , সেটা লেখাতেও এসে ভর করে । যাই হোক – আমার ঘরের কাছের শহর – তাই চলতে ফিরতে  তাই প্রতিনিয়ত তুলনা করে ফেলতাম – আমি জানি কোথাও বেড়াতে গেলে তা করা উচিত নয় – যা গুটি কয় শহরে যাওয়া হয়েছে পদে পদে দাঁত কামড়ে সে কথা মাথা পেতে মেনে নিয়ে ই শহর দেখেছি কিন্তু কলকাতার বেলায় তা করতে পারিনি – এক ভাষায় কথা বলি , এক ই রকম চলা ফেরা – এক রবি বাবুর সুরে মাথা দোলাই – তাই অনেক কিছুতেই তুলনামূলকতা চলে এসেছে মাথায় । ১৭৭২ এর পর থেকে যা ছিল পুরো ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী (আমাদের ঢাকা আবার রাজধানী ছিল তার ও আগে থেকে – ভুল না জানলে ১৬১০ ) তাই পুরনো আমলের অনেক কীর্তি ও আছে এদিক ওদিক ছড়িয়ে – তা ছাপিয়ে আমি দেখতে চেয়েছি তার বর্তমানের ছবি – অনেক ভাল ভাবেই কলকাতা রক্ষা করতে পেরেছে তার ধারাবাহিকতা – আধুনিকতার অনেক সুবিধার সাথে সাথে গায়ে গা লেগে আসা অসুবিধা গুলোকে প্রতিহত করাটা ই তো সতিকারের নগরায়ন । ঢাকার জ্যাম ঠেলে ঠেলে চলা এই আমি যখন কলকাতার এদিক ওদিক  চলাচল করতে পারি তুলনামূলক অনেক কম জ্যাম এর মাঝে – আফসোস লাগে -রাস্তা পারাপারে ট্রাফিক বাতির প্রতি চালক দের সহযোগীতা দেখতে পেয়ে -দীর্ঘশ্বাস দিয়েছি -দু মিনিট অপেক্ষা করে ই ট্যাক্সি পেয়ে – মনে পড়ে গিয়েছিল আমার প্রিয় ঢাকা শহরের কথা – যেথায় কোথাও যাওয়ার জন্য ট্যাক্সি/ সি এন জি পাওয়া লটারি জেতার মত ই ব্যাপার – আমরা কেন অন্য শহরের ভাল গুলো গ্রহন করতে পারিনা !
কেউ যেন আবার না ভেবে বসেন কলকাতা স্ব্বর্গ , ওখানেও খুন খারাপি হয় – মানুষে মানুষে খিস্তি খেউড় লাগে – আর মানুষ গুলো কেমন তা অল্প কদিনের দেখায় বলা উচিত না – আর সবচেয়ে বড় কথা পৃথিবীর সব জায়গার মানুষ ই প্রায় এক রকম – শুধু সামাজিকতার তারতম্যের কারনে পার্থক্য টা প্রকট আকারে দেখায় ।
আমরা কলকাতার মানুষের খাদ্যাভাস নিয়ে খোঁচা দিই – আমার কাছে ও ব্যাপারটা এক ই রকম ঠেকেছে – মিহিদানা সাইজের দুটো মিষ্টি খেয়ে কেউ যদি ঢেকুর তুলে বলে – “যা খেলুম দাদা – আহা আহা ” – একটু তো হাসি পাবেই আপনার – ঠিক না !
- তবে আবার যেতে হবে – রবীন্দ্রনাথের বাড়িটি দেখা হয়নি , সামনের বারের জন্য তোলা রইল ।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>